ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কাব্যমায়া’র পর মনদীপ ঘরাই এর উদ্যোগ ‘যোদ্ধার কলম’

  • তানজিদ শুভ্র
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • 148
বই পড়া মানুষটির নেশা। বই নিয়ে কাজ করতেই তার আনন্দ। গল্প, কবিতা কিংবা উপন্যাস – সবই মলাটবন্দি করেছেন মনদীপ ঘরাই তার কলমের আঁচড়ে।
শরিয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন কালে রেখে গেছেন নানা স্মৃতি চিহ্ন। সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বরিশাল হয়ে শরিয়তপুর থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃতি চিহ্ন শরিয়তপুরবাসীকে বারবার তার কথা মনে করিয়ে দিবে।
শরীয়তপুরে মনদীপ ঘরাই এর সর্বশেষ উদ্যোগ ‘যোদ্ধার কলম’। ‘যোদ্ধার কলম’ একটি দেয়াল, যেখানে সদর উপজেলার অর্ধশত বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজ হাতে লিখেছেন তাঁদের যাপিত যু্দ্ধের গল্প।গল্পগুলো আগলে রেখে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে দেয়ালটি। এমন প্রামাণ্য দেয়াল দেশে এবারই প্রথম।
যোদ্ধার কলমের উদ্যোক্তা মনদীপ ঘরাই বলেন, দেয়ালটা দেখতে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চোখে জল দেখেছি। শুধু নামে নয়, বীর মুক্তিযোদ্ধারা টিকে থাকুক বীরত্বগাঁথায়; প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
অতি সম্প্রতি নজরে আসে মনদীপ ঘরাই এর আরেকটি উদ্যোগ। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে গড়ে তুলেছেন কবিতার দেয়াল ‘কাব্যমায়া’। ১৫ ফিট চওড়া আর ১২ ফিট উচ্চতার এ কংক্রিটের দেয়ালটিতে সাজানো হয় বাংলার খ্যাতিমান ও নবীন কবিদের ১৩৬ টি কবিতা। দেয়ালের ওপর সাদা টাইলসে খোদাই করে রাখা হয়েছে কবিতাগুলো।
পদ্মাসেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান উদযাপনের সময়ও দৃষ্টি কাড়ে মনদীপ ঘরাই এর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।  ‘পদ্মা সেতু দেয়ালে, খেয়ালে’ নামে উদ্যোগে অংশ নেয় স্কুল পড়ুয়ারা। শরীয়তপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সীমানাপ্রাচীরে ও শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে উন্মুক্ত দেয়ালে লাগানো হয় শিক্ষার্থীদের আঁকা পদ্মা সেতুর ছবি ও পদ্মা সেতু নিয়ে কবিতা। সদর উপজেলার একুশটি বিদ্যালয়ের ৪১ জন শিক্ষার্থীর আঁকা সেতুর ছবি ও পদ্মা সেতু নিয়ে ৩১টি কবিতা দেয়ালে লাগানো হয়েছিল এই দেয়ালে।
গত বছর শরীয়তপুরের সদরের পালং সড়কের পাশে ‘একুশ’ নামে একটি উন্মুক্ত পাঠাগার গড়ে তুলেন মনদীপ ঘরাই। যেখানে নেই কোন লাইব্রেরিয়ান বা রেজিস্ট্রার খাতা। বইগুলো আটকে রাখা হয়নি। সবার জন্যই উন্মুক্ত। সেখানে দাঁড়িয়ে পড়া যায়, কেউ বই নিয়েও যেতে পারেন। ‘আপনার পছন্দমতো একটি বই নিয়ে যান, পড়া শেষে নিজ দায়িত্বে ফেরত দিন’ কথাটি পাঠাগারের দেয়ালে লেখা। তিন তাকের ছোট্ট একটি সেলফ রাখা। প্রতি তাকে ৭টি করে সেলফটিতে রয়েছে ২১টি ভিন্নধর্মী বই।
এর আগে যশোরের অভয়নগর ভূমি অফিসে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক থিমপার্ক ‘স্বাধীনতা অঙ্গন’ নির্মাণ করেছিলেন মনদীপ ঘরাই।
শিল্প ও সাহিত্য প্রেমী মনদীপ ঘরাই এর কর্মজীবনের শুরু সংবাদমাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এরপর শরিয়তপুর সদর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
Tag :
জনপ্রিয়

মাদারদিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

কাব্যমায়া’র পর মনদীপ ঘরাই এর উদ্যোগ ‘যোদ্ধার কলম’

প্রকাশের সময় : ০৯:৫৯:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
বই পড়া মানুষটির নেশা। বই নিয়ে কাজ করতেই তার আনন্দ। গল্প, কবিতা কিংবা উপন্যাস – সবই মলাটবন্দি করেছেন মনদীপ ঘরাই তার কলমের আঁচড়ে।
শরিয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন কালে রেখে গেছেন নানা স্মৃতি চিহ্ন। সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বরিশাল হয়ে শরিয়তপুর থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃতি চিহ্ন শরিয়তপুরবাসীকে বারবার তার কথা মনে করিয়ে দিবে।
শরীয়তপুরে মনদীপ ঘরাই এর সর্বশেষ উদ্যোগ ‘যোদ্ধার কলম’। ‘যোদ্ধার কলম’ একটি দেয়াল, যেখানে সদর উপজেলার অর্ধশত বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজ হাতে লিখেছেন তাঁদের যাপিত যু্দ্ধের গল্প।গল্পগুলো আগলে রেখে সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে দেয়ালটি। এমন প্রামাণ্য দেয়াল দেশে এবারই প্রথম।
যোদ্ধার কলমের উদ্যোক্তা মনদীপ ঘরাই বলেন, দেয়ালটা দেখতে এসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চোখে জল দেখেছি। শুধু নামে নয়, বীর মুক্তিযোদ্ধারা টিকে থাকুক বীরত্বগাঁথায়; প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
অতি সম্প্রতি নজরে আসে মনদীপ ঘরাই এর আরেকটি উদ্যোগ। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে গড়ে তুলেছেন কবিতার দেয়াল ‘কাব্যমায়া’। ১৫ ফিট চওড়া আর ১২ ফিট উচ্চতার এ কংক্রিটের দেয়ালটিতে সাজানো হয় বাংলার খ্যাতিমান ও নবীন কবিদের ১৩৬ টি কবিতা। দেয়ালের ওপর সাদা টাইলসে খোদাই করে রাখা হয়েছে কবিতাগুলো।
পদ্মাসেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠান উদযাপনের সময়ও দৃষ্টি কাড়ে মনদীপ ঘরাই এর ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।  ‘পদ্মা সেতু দেয়ালে, খেয়ালে’ নামে উদ্যোগে অংশ নেয় স্কুল পড়ুয়ারা। শরীয়তপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সীমানাপ্রাচীরে ও শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে উন্মুক্ত দেয়ালে লাগানো হয় শিক্ষার্থীদের আঁকা পদ্মা সেতুর ছবি ও পদ্মা সেতু নিয়ে কবিতা। সদর উপজেলার একুশটি বিদ্যালয়ের ৪১ জন শিক্ষার্থীর আঁকা সেতুর ছবি ও পদ্মা সেতু নিয়ে ৩১টি কবিতা দেয়ালে লাগানো হয়েছিল এই দেয়ালে।
গত বছর শরীয়তপুরের সদরের পালং সড়কের পাশে ‘একুশ’ নামে একটি উন্মুক্ত পাঠাগার গড়ে তুলেন মনদীপ ঘরাই। যেখানে নেই কোন লাইব্রেরিয়ান বা রেজিস্ট্রার খাতা। বইগুলো আটকে রাখা হয়নি। সবার জন্যই উন্মুক্ত। সেখানে দাঁড়িয়ে পড়া যায়, কেউ বই নিয়েও যেতে পারেন। ‘আপনার পছন্দমতো একটি বই নিয়ে যান, পড়া শেষে নিজ দায়িত্বে ফেরত দিন’ কথাটি পাঠাগারের দেয়ালে লেখা। তিন তাকের ছোট্ট একটি সেলফ রাখা। প্রতি তাকে ৭টি করে সেলফটিতে রয়েছে ২১টি ভিন্নধর্মী বই।
এর আগে যশোরের অভয়নগর ভূমি অফিসে দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক থিমপার্ক ‘স্বাধীনতা অঙ্গন’ নির্মাণ করেছিলেন মনদীপ ঘরাই।
শিল্প ও সাহিত্য প্রেমী মনদীপ ঘরাই এর কর্মজীবনের শুরু সংবাদমাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এরপর শরিয়তপুর সদর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।