ঢাকা ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

যেসব কারণে ঈমান ভেঙে যায়

অজু, নামাজ ও রোজা যেমন ভেঙে যায় ঠিক তেমনি কিছু কারণ ও পাপের মাধ্যমে ঈমানও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ওই ব্যক্তি মুসলমানের কাতার থেকে বহিস্কৃত হয়। এবং তওবা না করলে কাফেরদের মতোই চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে হবে তাকে। অথচ অনেকেই জানেন না কোন কাজের কারণে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়। এ নিয়ে আলেমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য ৫ টি কারণ তুলে ধরা হলো-

১) আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা

আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে কোন কিছু শরীক করলে ঈমানের মতো মহামূল্যবান সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে অংশীদার করা ক্ষমা করেন না; তা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে সে এক মহাপাপ করে।’ (সুরা নিসা: ৪৮)

অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করলে অবশ্যই আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা মায়েদা: ৭২)

২) মুশরিক-কাফেরদের কাফের মনে না করা

যার কাফের হওয়ার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত একমত, যেমন ইহুদি-খ্রিস্টান-মুশরিক ছাড়াও প্রকাশ্যে আল্লাহ, রাসুল বা দীনের কোনো অকাট্য ব্যাপার নিয়ে কটূক্তিকারী; যাদের কুফরির ব্যাপারে হকপন্থি আলেমগণ একমত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের (কথাকে) অমান্য করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন। সে তাতে চিরকাল থাকবে এবং অবমাননাকর শাস্তি ভোগ করবে।’ (সুরা নিসা: ১৪)

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (স.) কথাকে অবিশ্বাস করে তারা সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতে কাফের। আর আমরা যদি তা বিশ্বাস না করি তাহলে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের কথাকে অবিশ্বাস করার কারণে কাফের হয়ে যাবো। নাউজুবিল্লাহ।

৩) নবীজি (স.)-এর আনিত কোনো বিধানকে অপছন্দ করা

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যেই দ্বীন-কিতাব ও বিধান নিয়ে এসেছেন এসব না মানা ও অপছন্দ করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘অতএব, আপনার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে বিচারক বলে মনে না করে। এরপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা সন্তুষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।’ (সুরা নিসা: ৬৫)

৪) দ্বীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা

আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া কোনও বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা ঈমান ভঙ্গের কারণের একটি। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আপনি তাদের প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, ‘আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতূক করছিলাম।’ বলেন, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে বিদ্রূপ করছিলে?’ তোমরা অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফুরি করেছ।” (সুরা তওবা: ৬৫-৬৬)

৫) মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা

মুসলিমদের বিরুদ্ধে গিয়ে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা করলে ঈমান ভেঙ্গে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভাইও যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরিকে বেছে নেয়, তবে তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করে, তারাই সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (সুরা তাওবা: ২৩)

‘হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন বলে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।’ (সুরা মায়েদা: ৫১)

Tag :
জনপ্রিয়

মাদারদিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

যেসব কারণে ঈমান ভেঙে যায়

প্রকাশের সময় : ০৯:০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

অজু, নামাজ ও রোজা যেমন ভেঙে যায় ঠিক তেমনি কিছু কারণ ও পাপের মাধ্যমে ঈমানও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ওই ব্যক্তি মুসলমানের কাতার থেকে বহিস্কৃত হয়। এবং তওবা না করলে কাফেরদের মতোই চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে হবে তাকে। অথচ অনেকেই জানেন না কোন কাজের কারণে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়। এ নিয়ে আলেমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য ৫ টি কারণ তুলে ধরা হলো-

১) আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা

আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে কোন কিছু শরীক করলে ঈমানের মতো মহামূল্যবান সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে অংশীদার করা ক্ষমা করেন না; তা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং যে কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে সে এক মহাপাপ করে।’ (সুরা নিসা: ৪৮)

অন্যত্র বলা হয়েছে, ‘কেউ আল্লাহর সঙ্গে শিরক করলে অবশ্যই আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করবেন এবং তার আবাস জাহান্নাম। আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা মায়েদা: ৭২)

২) মুশরিক-কাফেরদের কাফের মনে না করা

যার কাফের হওয়ার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত একমত, যেমন ইহুদি-খ্রিস্টান-মুশরিক ছাড়াও প্রকাশ্যে আল্লাহ, রাসুল বা দীনের কোনো অকাট্য ব্যাপার নিয়ে কটূক্তিকারী; যাদের কুফরির ব্যাপারে হকপন্থি আলেমগণ একমত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের (কথাকে) অমান্য করবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে দাখিল করবেন। সে তাতে চিরকাল থাকবে এবং অবমাননাকর শাস্তি ভোগ করবে।’ (সুরা নিসা: ১৪)

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (স.) কথাকে অবিশ্বাস করে তারা সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মতে কাফের। আর আমরা যদি তা বিশ্বাস না করি তাহলে আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের কথাকে অবিশ্বাস করার কারণে কাফের হয়ে যাবো। নাউজুবিল্লাহ।

৩) নবীজি (স.)-এর আনিত কোনো বিধানকে অপছন্দ করা

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে যেই দ্বীন-কিতাব ও বিধান নিয়ে এসেছেন এসব না মানা ও অপছন্দ করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘অতএব, আপনার পালনকর্তার কসম, সে লোক ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে বিচারক বলে মনে না করে। এরপর আপনার মীমাংসার ব্যাপারে নিজের মনে কোনো রকম সংকীর্ণতা পাবে না এবং তা সন্তুষ্টচিত্তে কবুল করে নেবে।’ (সুরা নিসা: ৬৫)

৪) দ্বীনের কোনো বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা

আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে দেওয়া কোনও বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা ঈমান ভঙ্গের কারণের একটি। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আপনি তাদের প্রশ্ন করলে তারা নিশ্চয়ই বলবে, ‘আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও ক্রীড়া-কৌতূক করছিলাম।’ বলেন, ‘তোমরা কি আল্লাহ, তাঁর আয়াত ও তাঁর রাসুলকে বিদ্রূপ করছিলে?’ তোমরা অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফুরি করেছ।” (সুরা তওবা: ৬৫-৬৬)

৫) মুসলিমদের বিরুদ্ধে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা

মুসলিমদের বিরুদ্ধে গিয়ে মুশরিকদের সমর্থন ও সহযোগিতা করা করলে ঈমান ভেঙ্গে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের পিতা ও ভাইও যদি ঈমানের বিপরীতে কুফরিকে বেছে নেয়, তবে তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করে, তারাই সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (সুরা তাওবা: ২৩)

‘হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন বলে গণ্য হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।’ (সুরা মায়েদা: ৫১)