ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় ডেমু ট্রেন চলাচল

রেল জংশন হওয়ায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে ও প্লাটফর্ম সবসময় ব্যস্ত থাকে। কিছুক্ষণ পরপরই বিভিন্ন রুট থেকে আসা ট্রেন পার্বতীপুর জংশনে প্রবেশ করে। তাই এই জংশনকে কেন্দ্র করে ট্রেন মেরামত করার জন্য গড়ে উঠেছে ডিজেল লোকোমোটিভ কারখানা। গত ৫ সেপ্টেম্বর অচল এক সেট ডেমু ট্রেন দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রচেষ্ঠায় সচল হওয়ার পর পরীক্ষামূলক ট্রায়াল দেয়া হয়। এরপর বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করার জন্য পার্বতীপুর রেলওয়ে ইনচার্জ (কেলোকা) প্রকৌশলী কাফিউল ইসলামের কাছে হন্তান্তর করা হয়। এখন রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই সচল হওয়া এক সেট ডেমু ট্রেন পুনরায় যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন রুটে চলাচল করতে পারে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা ও বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই ডেমু ট্রেনগুলো সচল করেন। আসাদুজ্জামান ডেমু ট্রেন নিয়ে কাজ শুরুর আড়াই মাসের মধ্যে কী ধরনের প্রযুক্তিতে এগুলো চালাতে হবে, তা বের করেন। ব্যয়বহুল মডিউলের বদলে বসানো হয় মাত্র দুটি কন্ট্রোলার। আর তা দিয়েই প্রথম একটি ডেমু ট্রেন সচল করা হয়।

চীন থেকে আমদানি করা ডেমু ট্রেনগুলো করোনাকালীন সময়ে অকেজো হয়ে পড়ে। দেশের প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সচল হচ্ছে সেগুলো। নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিজেল লোকমেটিভ ওয়ার্কশপে সচল করা হয়েছে ১টি ডেমু ট্রেন। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডেমু ট্রেন আমদানি করা হয় ২০১৩ সালে। উদ্দেশ্য ছিল ওইসব ট্রেনের মাধ্যমে কাছাকাছি দূরত্বে বেশি করে যাত্রী পরিবহন করা। চীনের তানসন ইন্টারন্যাশনাল ও ডানিয়াল টেকনিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ট্রেনগুলোর নির্মাতা। কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত ওই ট্রেনগুলো বিশেষ সফটওয়্যার দিয়ে পরিচালিত। এ প্রযুক্তি ডেমু ট্রেন সরবরাহকারী চীনের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে কখনো দেয়নি।

স্বল্প সময়ে ডেমু ট্রেনগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। স্বল্প দূরত্বের জন্য আনা হলেও দীর্ঘ দূরত্বেও চালানো হয়েছে এগুলো। মেরামতের অভাবে ২০২০ সালে ট্রেনগুলো বিকল হয়ে যায়। আবার এগুলো জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচল করলে যাত্রীসাধারণ ট্রেন ভ্রমণে সুবিধা পাবে।

স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বল্প দূরুত্বে যাতায়াতের জন্য ডেমু ট্রেন যুগোপযোগী। এই ডেমু ট্রেন পার্বতীপুর লোকোমেটিভ থেকে সচল করা হয়েছে। আমরা শুনেছি পার্বতীপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট এই ডেমু চলাচলের জন্য আবেদন করেছেন। অনুমতি পেলেই ট্রেনটি পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করতে দেখা যাবে। সচল ডেমু ট্রেনটি আবার চলাচল শুরু করলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য উপকার হবে।

পার্বতীপুর রেলওয়ে ইনচার্জ (কেলোকা) প্রকৌশলী কাফিউল ইসলাম বলেন, পার্বতীপুরের লোকোসেডে অকেজো অবস্থায় থাকা ২টি ডেমু ট্রেন গত বছরের ২৪ মার্চ মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা আসা প্রকৌশলী আসাদুজ্জানের নেতৃত্বে একদল প্রকৌশলী গত বছরের ২ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যেই একসেট ডেমু ট্রেনটি মেরামত সম্পন্ন করে ২৯ বার ট্রায়াল দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রী লোড ছাড়া ২৭ বার ও যাত্রী লোড নিয়ে ২ বার পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট রেলপথে চালানো হয়েছে। সফলভাবেই এসব ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। সচল ডেমু ট্রেনটি পার্বতীপুর লেকেমেটিভ কর্তৃপক্ষের নিকট পুনরায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রেলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট ডেমু চলাচল করানোর জন্য টিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠির নির্দেশনা পেলেই ডেমু ট্রেনটি চলাচল শুরু করবে।

Tag :
জনপ্রিয়

গাজীপুর ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠের অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান

কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার অপেক্ষায় ডেমু ট্রেন চলাচল

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৪:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

রেল জংশন হওয়ায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে ও প্লাটফর্ম সবসময় ব্যস্ত থাকে। কিছুক্ষণ পরপরই বিভিন্ন রুট থেকে আসা ট্রেন পার্বতীপুর জংশনে প্রবেশ করে। তাই এই জংশনকে কেন্দ্র করে ট্রেন মেরামত করার জন্য গড়ে উঠেছে ডিজেল লোকোমোটিভ কারখানা। গত ৫ সেপ্টেম্বর অচল এক সেট ডেমু ট্রেন দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রচেষ্ঠায় সচল হওয়ার পর পরীক্ষামূলক ট্রায়াল দেয়া হয়। এরপর বাণিজ্যিকভাবে চলাচল করার জন্য পার্বতীপুর রেলওয়ে ইনচার্জ (কেলোকা) প্রকৌশলী কাফিউল ইসলামের কাছে হন্তান্তর করা হয়। এখন রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলেই সচল হওয়া এক সেট ডেমু ট্রেন পুনরায় যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন রুটে চলাচল করতে পারে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা ও বুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এই ডেমু ট্রেনগুলো সচল করেন। আসাদুজ্জামান ডেমু ট্রেন নিয়ে কাজ শুরুর আড়াই মাসের মধ্যে কী ধরনের প্রযুক্তিতে এগুলো চালাতে হবে, তা বের করেন। ব্যয়বহুল মডিউলের বদলে বসানো হয় মাত্র দুটি কন্ট্রোলার। আর তা দিয়েই প্রথম একটি ডেমু ট্রেন সচল করা হয়।

চীন থেকে আমদানি করা ডেমু ট্রেনগুলো করোনাকালীন সময়ে অকেজো হয়ে পড়ে। দেশের প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সচল হচ্ছে সেগুলো। নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিজেল লোকমেটিভ ওয়ার্কশপে সচল করা হয়েছে ১টি ডেমু ট্রেন। রেলওয়ে সূত্র জানায়, ৬৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ সেট ডেমু ট্রেন আমদানি করা হয় ২০১৩ সালে। উদ্দেশ্য ছিল ওইসব ট্রেনের মাধ্যমে কাছাকাছি দূরত্বে বেশি করে যাত্রী পরিবহন করা। চীনের তানসন ইন্টারন্যাশনাল ও ডানিয়াল টেকনিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ট্রেনগুলোর নির্মাতা। কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত ওই ট্রেনগুলো বিশেষ সফটওয়্যার দিয়ে পরিচালিত। এ প্রযুক্তি ডেমু ট্রেন সরবরাহকারী চীনের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশকে কখনো দেয়নি।

স্বল্প সময়ে ডেমু ট্রেনগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। স্বল্প দূরত্বের জন্য আনা হলেও দীর্ঘ দূরত্বেও চালানো হয়েছে এগুলো। মেরামতের অভাবে ২০২০ সালে ট্রেনগুলো বিকল হয়ে যায়। আবার এগুলো জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচল করলে যাত্রীসাধারণ ট্রেন ভ্রমণে সুবিধা পাবে।

স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, স্বল্প দূরুত্বে যাতায়াতের জন্য ডেমু ট্রেন যুগোপযোগী। এই ডেমু ট্রেন পার্বতীপুর লোকোমেটিভ থেকে সচল করা হয়েছে। আমরা শুনেছি পার্বতীপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট এই ডেমু চলাচলের জন্য আবেদন করেছেন। অনুমতি পেলেই ট্রেনটি পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করতে দেখা যাবে। সচল ডেমু ট্রেনটি আবার চলাচল শুরু করলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য উপকার হবে।

পার্বতীপুর রেলওয়ে ইনচার্জ (কেলোকা) প্রকৌশলী কাফিউল ইসলাম বলেন, পার্বতীপুরের লোকোসেডে অকেজো অবস্থায় থাকা ২টি ডেমু ট্রেন গত বছরের ২৪ মার্চ মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে হস্তান্তর করা হয়। ঢাকা আসা প্রকৌশলী আসাদুজ্জানের নেতৃত্বে একদল প্রকৌশলী গত বছরের ২ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু করেন। ইতোমধ্যেই একসেট ডেমু ট্রেনটি মেরামত সম্পন্ন করে ২৯ বার ট্রায়াল দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যাত্রী লোড ছাড়া ২৭ বার ও যাত্রী লোড নিয়ে ২ বার পঞ্চগড় ও লালমনিরহাট রেলপথে চালানো হয়েছে। সফলভাবেই এসব ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। সচল ডেমু ট্রেনটি পার্বতীপুর লেকেমেটিভ কর্তৃপক্ষের নিকট পুনরায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রেলের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট ডেমু চলাচল করানোর জন্য টিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠির নির্দেশনা পেলেই ডেমু ট্রেনটি চলাচল শুরু করবে।