ঢাকা ০৩:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কেন আইন অমান্যকারীকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন— প্রশ্নে ক্ষেপে গেলেন কাঞ্চন

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের কোনো সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত। উচ্চ আদালতের আদেশে এই পদে স্থিতাদেশ বহাল আছে। সুতরাং জায়েদ খান ও নিপুণ আক্তার— এই দুজনের কেউ সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারবে না।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী জায়েদ খান শিল্পী সমিতি থেকে দূরে আছেন। অপেক্ষায় আছেন চূড়ান্ত রায়ের। কিন্তু নিপুণ রায়ের জন্য অপেক্ষা না করে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে পড়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন। এমনকি আগস্টে শিল্পীদের সদস্যপদের যে কার্ড দেওয়া হয়েছে তাতেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

গত ১৪ মার্চ শুনানিতে জায়েদ-নিপুণকে উচ্চ আদালতের আদেশ মানার জন্য কড়াভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জায়েদের পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘সব শেষ শুনানিতে যখন এ প্রসঙ্গটি (আদালত অবমাননা) তোলা হয়েছিল তখন চিফ জাস্টিস উভয়কে হাইকোর্টের আদেশ কড়াভাবে মানতে বলেছিলেন। কিন্তু নিপুণ সেটা মানছেন না। আদালত অবমাননা করেই চলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিপুণ সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে যেসব কাজ করছেন সেগুলোর সব অবৈধ। সামান্য সিটিজেন হয়ে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার ফল তাকে ভোগ করতেই হবে। তাকে কী ধরনের শাস্তি ভোগ করতে হবে, সেটি আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

জায়েদের পক্ষের আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী বলেন, ‘নিপুণ যা খুশি তা করছেন। এটি পুরোপুরি আদালত অবমাননা। তিনি না বুঝে নাকি বুঝে এগুলো করছেন তা আমি জানি না। এই জিনিসটা এতই ফানি, বাজে আর বেআইনি যে সবাই হাসাহাসি করেন। মিনিমাম বিদ্যাবুদ্ধি যদি কোনো মানুষের থাকত তাহলে তারা এটি করতেন না।’

এদিকে নিপুণের আইনজীবী মো. মোস্তাফিজুর রহমান আদালত অবমাননার বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাইলেন না। জানালেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চান না।

এর আগে গেল ফেব্রুয়ারিতে নিপুণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছিলেন জায়েদ। নির্দেশ দেওয়া হয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিপুণ কোনো মিটিং বা সমিতির নেতা হয়ে অংশ নিতে পারবেন না। তবুও কেন দায়িত্ব পালন করছেন জানতে নিপুণের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

আদালত অবমাননা করায় নিপুণের প্রতি ক্ষিপ্ত জায়েদ খান। তিনি বলেন, ‘আদালতের রায় নিপুণ অবশ্যই পেয়েছেন। তিনি জানেন পদটি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। সেখানে নিপুণ কীভাবে মিটিং করছেন আর কোন শক্তিতে তিনি আদালতের রায় আবমাননা করছেন? আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছি।’

কয়েকমাস আগে এফডিসিতে সাংবাদিকদের সামনে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন জানিয়েছিলেন, সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক পালন করবেন। কিন্তু সেই দায়িত্ব তিনি পালন করছেন না। তিনি সেই দায়িত্ব কেন পালন করছেন না জানার জন্য বারবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন আইন মেনে চলার কথা বলেন। কিন্তু নিপুণের আইন অমান্য নিয়ে তিনি কিছু বলছেন না। বরং তাকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন। তিনি কেন আইন অমান্যকারীকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করছেন কেন? যার ব্যাপার তাকে প্রশ্ন করুন। আমি এ নিয়ে কোনো কথা বলব না।’

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি নির্বাচনে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটে জয় লাভ করেন জায়েদ খান। কিন্তু ফলাফল মেনে নেননি সাধারণ সম্পাদক পদে হেরে যাওয়া নিপুণ। তিনি আপিল করেন। পরে পদটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এটি এখন নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন উচ্চ আদালত।

Tag :
জনপ্রিয়

গাজীপুর ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠের অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান

কেন আইন অমান্যকারীকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন— প্রশ্নে ক্ষেপে গেলেন কাঞ্চন

প্রকাশের সময় : ০৮:২২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে চলমান দ্বন্দ্বের কোনো সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত। উচ্চ আদালতের আদেশে এই পদে স্থিতাদেশ বহাল আছে। সুতরাং জায়েদ খান ও নিপুণ আক্তার— এই দুজনের কেউ সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসতে পারবে না।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী জায়েদ খান শিল্পী সমিতি থেকে দূরে আছেন। অপেক্ষায় আছেন চূড়ান্ত রায়ের। কিন্তু নিপুণ রায়ের জন্য অপেক্ষা না করে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে পড়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন। এমনকি আগস্টে শিল্পীদের সদস্যপদের যে কার্ড দেওয়া হয়েছে তাতেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

গত ১৪ মার্চ শুনানিতে জায়েদ-নিপুণকে উচ্চ আদালতের আদেশ মানার জন্য কড়াভাবে বলে দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জায়েদের পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘সব শেষ শুনানিতে যখন এ প্রসঙ্গটি (আদালত অবমাননা) তোলা হয়েছিল তখন চিফ জাস্টিস উভয়কে হাইকোর্টের আদেশ কড়াভাবে মানতে বলেছিলেন। কিন্তু নিপুণ সেটা মানছেন না। আদালত অবমাননা করেই চলেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিপুণ সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসে যেসব কাজ করছেন সেগুলোর সব অবৈধ। সামান্য সিটিজেন হয়ে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার ফল তাকে ভোগ করতেই হবে। তাকে কী ধরনের শাস্তি ভোগ করতে হবে, সেটি আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।’

জায়েদের পক্ষের আরেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী বলেন, ‘নিপুণ যা খুশি তা করছেন। এটি পুরোপুরি আদালত অবমাননা। তিনি না বুঝে নাকি বুঝে এগুলো করছেন তা আমি জানি না। এই জিনিসটা এতই ফানি, বাজে আর বেআইনি যে সবাই হাসাহাসি করেন। মিনিমাম বিদ্যাবুদ্ধি যদি কোনো মানুষের থাকত তাহলে তারা এটি করতেন না।’

এদিকে নিপুণের আইনজীবী মো. মোস্তাফিজুর রহমান আদালত অবমাননার বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাইলেন না। জানালেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে চান না।

এর আগে গেল ফেব্রুয়ারিতে নিপুণের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করেছিলেন জায়েদ। নির্দেশ দেওয়া হয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিপুণ কোনো মিটিং বা সমিতির নেতা হয়ে অংশ নিতে পারবেন না। তবুও কেন দায়িত্ব পালন করছেন জানতে নিপুণের নাম্বারে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

আদালত অবমাননা করায় নিপুণের প্রতি ক্ষিপ্ত জায়েদ খান। তিনি বলেন, ‘আদালতের রায় নিপুণ অবশ্যই পেয়েছেন। তিনি জানেন পদটি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে। সেখানে নিপুণ কীভাবে মিটিং করছেন আর কোন শক্তিতে তিনি আদালতের রায় আবমাননা করছেন? আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছি।’

কয়েকমাস আগে এফডিসিতে সাংবাদিকদের সামনে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন জানিয়েছিলেন, সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক পালন করবেন। কিন্তু সেই দায়িত্ব তিনি পালন করছেন না। তিনি সেই দায়িত্ব কেন পালন করছেন না জানার জন্য বারবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনসহ নানা বিষয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন আইন মেনে চলার কথা বলেন। কিন্তু নিপুণের আইন অমান্য নিয়ে তিনি কিছু বলছেন না। বরং তাকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হচ্ছেন। তিনি কেন আইন অমান্যকারীকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করছেন কেন? যার ব্যাপার তাকে প্রশ্ন করুন। আমি এ নিয়ে কোনো কথা বলব না।’

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি নির্বাচনে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটে জয় লাভ করেন জায়েদ খান। কিন্তু ফলাফল মেনে নেননি সাধারণ সম্পাদক পদে হেরে যাওয়া নিপুণ। তিনি আপিল করেন। পরে পদটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এটি এখন নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন উচ্চ আদালত।