ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ফের বেপরোয়া অজ্ঞানপার্টি

মো. জসীম উদ্দিন (৪০) রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার একজন কাপড় ব্যবসায়ী। গত ৮ সেপ্টেম্বর দোকানের কাপড় কেনার জন্য ইসলামপুরের উদ্দেশে বের হন। মিরপুর-১০ নম্বরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে উঠে বসেন জানালার পাশে। তার পাসের সিটেই বসেন আরেক যাত্রী। সেই যাত্রী কিছুক্ষণের মধ্যেই জানালা দিয়ে ডাব কিনে খাচ্ছিলেন।

এ সময় সেই যাত্রী ১০০ টাকার নোট বের করে জানালার পাশে থাকা জসীমকে দিয়ে ডাব বিক্রেতাকে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই ডাব বিক্রেতা আরও একটি ডাব কেটে এবার জসীমকে দেন। ব্যাপারটি এমন যে, ডাব বিক্রেতা ভেবেছেন জসীম নিজের জন্য সেই টাকা দিয়েছেন। এ সময় জসীম ডাব খাবেন না বললেও যেহেতু কেটেই ফেলা হয়েছে তাই খেয়ে ফেলেন। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে যান জসীম। যখন জ্ঞান ফিরে তখন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যায়। মূলত জসীমের পাশের সেই যাত্রী এবং ডাব বিক্রেতা একটি সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টির চক্রের সদস্য।

এর আগে গত ৪ আগস্ট গুলিস্তানের সিটি প্লাজার সামনে যাত্রীবাহী বাসে মো. আল-আমিন (৪০) নামের আরেক ব্যবসায়ী অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারান। তার নাকের কাছে এক ধরনের স্প্রে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ছেন। সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টির কবলে পড়ে টাকাসহ কাছে থাকা সর্বস্ব হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এমনকি অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ফেরি-ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন- কোথাও নিরাপদ নয় কেউ। হকার কিংবা সহযাত্রী সেজে সাধারণ মানুষের সবকিছু কেড়ে নেয় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসে। গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে এখানে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ছাড়াও গত এক সপ্তাহে শুধু রাজধানীতেই অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েছেন সাতজন। গত কয়েকদিনের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আবারও বেড়েছে অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা।

মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা যারা বিভিন্ন মার্কেট কেন্দ্রিক চলাচলের জন্য বের হন তাদেরই বেশি টার্গেট করে অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাকরাইলে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েছে সোহেল রানা (২৫) নামের এক বিদেশ যাত্রী। সুস্থ হয়ে সোহেল রানা জানান, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকার সদর ঘাটে নেমে আবার বাসে উঠলে সেখানেই তিনি অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন। এ সময় তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও দুটো মোবাইল নিয়ে যায় চক্রটি। এর আগে গত ৩ আগস্ট রাজধানীতে বাসে উঠে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম (৫২)। ১১ আগস্ট রাজধানীতে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী মারাই গেছেন। নাসির উদ্দিন (৪২) নামের ওই ব্যবসায়ী কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে যাত্রীবাহী বাসে খিলগাঁও যাওয়ার পথে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ১ জুলাই গুলিস্তানে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন আবদুস সামাদ (৩৪) নামের আরেক পুলিশ সদস্য। গত ২২ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে ইউসুফ রেজা ওরফে রথি (২৪) নামের ঢাকার তিতুমীর কলেজের ছাত্রের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়াও গত ৫ মে রাতে টঙ্গী থানায় ডিউটি শেষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে যাওয়ার পথে বলাকা বাসে অজ্ঞানপার্টির শিকার হন এএসআই পারভেজ মল্লিক। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আমার পাশের সিটে থাকা এক যাত্রী পানি খেয়ে আমাকেও খেতে বলেন। পিপাসা থাকায় তার পানি আমিও নির্ভয়ে পান করি। এরপরই আমি অচেতন হয়ে পড়ি। পরে স্থানীয়রা ও আমার সহকর্মীরা ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’ অজ্ঞানপার্টির তৎপরতারোধে জনসচেতনতার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি পুলিশের জোরালো ভূমিকাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন সামাজিক অপরাধ বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, অজ্ঞানপার্টির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। ঢাকা মহানগরীতে আগের চেয়ে অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা কম বা বেশি হয়েছে তা পরিসংখ্যান দেখলে জানা যাবে। তবে অনেক সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা কিছুদিন জেল খেটে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে আইন কঠিন হলে এ ধরনের প্রতারণা কমে যেত। অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা বেশিরভাগই গণপরিবহন ও ভাসমান অবস্থায় অপরাধ করে। তাই এসব চক্র থেকে রক্ষায় জনসাধারণকেই বেশি সতর্ক হতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার ফিরোজ আহমেদ জানান, অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা মূলত রোরাজিপাম গ্রুপের ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে। খালি পেটে খেলে এর প্রতিক্রিয়া বেশি হয়ে থাকে। এ ধরনের হৃদরোগ, উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও লিভারের রোগ থাকা কোনো ব্যক্তিকে খাওয়ালে তার মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনতে দেরি হলে মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, ‘অজ্ঞানপার্টির সদস্যদের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। ভ্রমণপথে অপরিচিত কেউ অহেতুক ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পাত্তা না দেওয়া। কখন, কোথা থেকে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আবার কারও হাতে রুমাল দেখলে সতর্ক থাকা। কারণ রুমালের মধ্যে ক্লোরোফর্ম মিশিয়ে নাকের কাছে ধরলেই মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়। ফুটপাথে বা রাস্তার মোড়ে টং দোকান থেকে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ফেরিওয়ালা বা ভ্রাম্যমাণ কারও কাছ থেকে খাওয়া খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অটোরিকশায় চলার সময় ড্রাইভারের কাছ থেকে যাত্রী এবং যাত্রীর কাছ থেকে চালকরা কোনো খাবার গ্রহণ না করা। এর বাইরে পুলিশের নজরদারি এবং চিহ্নিত এ ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হলেই এ অপতৎপরতা কমে যাবে।’

Tag :
জনপ্রিয়

গাজীপুর ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠের অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠান

ফের বেপরোয়া অজ্ঞানপার্টি

প্রকাশের সময় : ১০:০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

মো. জসীম উদ্দিন (৪০) রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকার একজন কাপড় ব্যবসায়ী। গত ৮ সেপ্টেম্বর দোকানের কাপড় কেনার জন্য ইসলামপুরের উদ্দেশে বের হন। মিরপুর-১০ নম্বরে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে উঠে বসেন জানালার পাশে। তার পাসের সিটেই বসেন আরেক যাত্রী। সেই যাত্রী কিছুক্ষণের মধ্যেই জানালা দিয়ে ডাব কিনে খাচ্ছিলেন।

এ সময় সেই যাত্রী ১০০ টাকার নোট বের করে জানালার পাশে থাকা জসীমকে দিয়ে ডাব বিক্রেতাকে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে সেই ডাব বিক্রেতা আরও একটি ডাব কেটে এবার জসীমকে দেন। ব্যাপারটি এমন যে, ডাব বিক্রেতা ভেবেছেন জসীম নিজের জন্য সেই টাকা দিয়েছেন। এ সময় জসীম ডাব খাবেন না বললেও যেহেতু কেটেই ফেলা হয়েছে তাই খেয়ে ফেলেন। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে যান জসীম। যখন জ্ঞান ফিরে তখন তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শয্যায়। মূলত জসীমের পাশের সেই যাত্রী এবং ডাব বিক্রেতা একটি সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টির চক্রের সদস্য।

এর আগে গত ৪ আগস্ট গুলিস্তানের সিটি প্লাজার সামনে যাত্রীবাহী বাসে মো. আল-আমিন (৪০) নামের আরেক ব্যবসায়ী অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারান। তার নাকের কাছে এক ধরনের স্প্রে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ছেন। সংঘবদ্ধ অজ্ঞানপার্টির কবলে পড়ে টাকাসহ কাছে থাকা সর্বস্ব হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এমনকি অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন, লঞ্চ, ফেরি-ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন- কোথাও নিরাপদ নয় কেউ। হকার কিংবা সহযাত্রী সেজে সাধারণ মানুষের সবকিছু কেড়ে নেয় অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ জন মানুষ অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে এ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসে। গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে এখানে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ছাড়াও গত এক সপ্তাহে শুধু রাজধানীতেই অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েছেন সাতজন। গত কয়েকদিনের সংখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আবারও বেড়েছে অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা।

মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা যারা বিভিন্ন মার্কেট কেন্দ্রিক চলাচলের জন্য বের হন তাদেরই বেশি টার্গেট করে অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাকরাইলে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েছে সোহেল রানা (২৫) নামের এক বিদেশ যাত্রী। সুস্থ হয়ে সোহেল রানা জানান, বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকার সদর ঘাটে নেমে আবার বাসে উঠলে সেখানেই তিনি অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন। এ সময় তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও দুটো মোবাইল নিয়ে যায় চক্রটি। এর আগে গত ৩ আগস্ট রাজধানীতে বাসে উঠে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম (৫২)। ১১ আগস্ট রাজধানীতে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী মারাই গেছেন। নাসির উদ্দিন (৪২) নামের ওই ব্যবসায়ী কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে যাত্রীবাহী বাসে খিলগাঁও যাওয়ার পথে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ১ জুলাই গুলিস্তানে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়েন আবদুস সামাদ (৩৪) নামের আরেক পুলিশ সদস্য। গত ২২ জুন কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অজ্ঞানপার্টির খপ্পরে পড়ে ইউসুফ রেজা ওরফে রথি (২৪) নামের ঢাকার তিতুমীর কলেজের ছাত্রের মৃত্যু হয়।

এ ছাড়াও গত ৫ মে রাতে টঙ্গী থানায় ডিউটি শেষে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে যাওয়ার পথে বলাকা বাসে অজ্ঞানপার্টির শিকার হন এএসআই পারভেজ মল্লিক। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আমার পাশের সিটে থাকা এক যাত্রী পানি খেয়ে আমাকেও খেতে বলেন। পিপাসা থাকায় তার পানি আমিও নির্ভয়ে পান করি। এরপরই আমি অচেতন হয়ে পড়ি। পরে স্থানীয়রা ও আমার সহকর্মীরা ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন।’ অজ্ঞানপার্টির তৎপরতারোধে জনসচেতনতার ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি পুলিশের জোরালো ভূমিকাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন সামাজিক অপরাধ বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, অজ্ঞানপার্টির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। ঢাকা মহানগরীতে আগের চেয়ে অজ্ঞানপার্টির তৎপরতা কম বা বেশি হয়েছে তা পরিসংখ্যান দেখলে জানা যাবে। তবে অনেক সদস্যকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তারা কিছুদিন জেল খেটে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে আইন কঠিন হলে এ ধরনের প্রতারণা কমে যেত। অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা বেশিরভাগই গণপরিবহন ও ভাসমান অবস্থায় অপরাধ করে। তাই এসব চক্র থেকে রক্ষায় জনসাধারণকেই বেশি সতর্ক হতে হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার ফিরোজ আহমেদ জানান, অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা মূলত রোরাজিপাম গ্রুপের ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে। খালি পেটে খেলে এর প্রতিক্রিয়া বেশি হয়ে থাকে। এ ধরনের হৃদরোগ, উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও লিভারের রোগ থাকা কোনো ব্যক্তিকে খাওয়ালে তার মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনতে দেরি হলে মৃত্যুর ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক বলেন, ‘অজ্ঞানপার্টির সদস্যদের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই। ভ্রমণপথে অপরিচিত কেউ অহেতুক ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলে তাকে পাত্তা না দেওয়া। কখন, কোথা থেকে তৃষ্ণা মেটাচ্ছেন সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আবার কারও হাতে রুমাল দেখলে সতর্ক থাকা। কারণ রুমালের মধ্যে ক্লোরোফর্ম মিশিয়ে নাকের কাছে ধরলেই মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়। ফুটপাথে বা রাস্তার মোড়ে টং দোকান থেকে খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ফেরিওয়ালা বা ভ্রাম্যমাণ কারও কাছ থেকে খাওয়া খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অটোরিকশায় চলার সময় ড্রাইভারের কাছ থেকে যাত্রী এবং যাত্রীর কাছ থেকে চালকরা কোনো খাবার গ্রহণ না করা। এর বাইরে পুলিশের নজরদারি এবং চিহ্নিত এ ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হলেই এ অপতৎপরতা কমে যাবে।’