ঢাকা ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চন্দন ও সুবল দীর্ঘদিন ধরে এমপি লিটনকে নজরদারিতে রাখছিল: র‌্যাব

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার আগে তাকে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখছিল দুই আসামি চন্দন কুমার রায় ও সুবল রায়। সোমবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এমনটাই জানান র‌্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমাণ্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা-১) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে তার নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যো করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ছোটবোন সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে সুন্দরগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে ২০১৭ সালে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন।’

আল মঈন আরও বলেন, ‘বিচারকাজ চলাকালীন সময়ে আসামি সুবল রায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কাদেরসহ অভিযুক্ত আটজনের সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সাতজনের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হন, তবে চন্দন পলাতক ছিলেন।’

আল মঈন জানান, ‘চন্দন রায় দেশত্যাগ করে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছিল চন্দনকে। অবশেষে তাকে সাতক্ষীরা বর্ডার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য লিটন হত্যাকাণ্ডের প্রধান সমন্বয়কারী ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারিকৃত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চন্দন কুমার রায়কে রবিবার সাতক্ষীরা ভোমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। দুই মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

লিটন হত্যার ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল কাদের খানসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- গাইবান্ধা-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খান, তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদী হাসান, শাহীন মিয়া, রানা ও চন্দন কুমার রায়।

এদের মধ্যে চন্দন কুমার রায় পলাতক ছিলেন দীর্ঘদিন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অবশেষে তিনি গ্রেপ্তার হলেন। মামলার অপর আসামি সুবল কসাই কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।

Tag :
জনপ্রিয়

মাদারদিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

চন্দন ও সুবল দীর্ঘদিন ধরে এমপি লিটনকে নজরদারিতে রাখছিল: র‌্যাব

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে হত্যার আগে তাকে দীর্ঘদিন ধরে নজরদারিতে রাখছিল দুই আসামি চন্দন কুমার রায় ও সুবল রায়। সোমবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এমনটাই জানান র‌্যাব সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমাণ্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা-১) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে তার নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যো করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ছোটবোন সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে সুন্দরগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে ২০১৭ সালে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেন।’

আল মঈন আরও বলেন, ‘বিচারকাজ চলাকালীন সময়ে আসামি সুবল রায় অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর এমপি লিটন হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কাদেরসহ অভিযুক্ত আটজনের সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সাতজনের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হন, তবে চন্দন পলাতক ছিলেন।’

আল মঈন জানান, ‘চন্দন রায় দেশত্যাগ করে পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখছিল চন্দনকে। অবশেষে তাকে সাতক্ষীরা বর্ডার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

প্রসঙ্গত, সংসদ সদস্য লিটন হত্যাকাণ্ডের প্রধান সমন্বয়কারী ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারিকৃত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চন্দন কুমার রায়কে রবিবার সাতক্ষীরা ভোমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। দুই মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

লিটন হত্যার ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আবদুল কাদের খানসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- গাইবান্ধা-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ডা. আবদুল কাদের খান, তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদী হাসান, শাহীন মিয়া, রানা ও চন্দন কুমার রায়।

এদের মধ্যে চন্দন কুমার রায় পলাতক ছিলেন দীর্ঘদিন। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অবশেষে তিনি গ্রেপ্তার হলেন। মামলার অপর আসামি সুবল কসাই কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।