ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

একদিন পরেই হকারদের দখলে ‘রেড জোন’

পদ্মা সেতুতে যাওয়ার সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে রাজধানীর পল্টন ও গুলিস্তানের বেশকিছু এলাকাকে হকারদের জন্য ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রেড জোনের সড়ক ও ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদের এক দিন যেতে না যেতেই ফের দখল হয়ে গেছে। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব এলাকায় হকাররা আবার মালামালের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে।

এর আগে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হয়ে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স, বঙ্গভবন, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারগামী ও ফ্লাইওভার থেকে গুলিস্তান চত্বর এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে ডিএসসিসি। এসব এলাকায় হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তাও দেয় সংস্থাটি। মেয়রের বক্তব্য ছাড়াও তিন দিনব্যাপী ওই এলাকায় মাইকিং করা হয়।

রোববার প্রায় এক হাজার হকার উচ্ছেদ করে ডিএসসিসি। একই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯ জনকে শাস্তির মুখোমুখি করা হয়। এরপরও হকাররা ফুটপাথ ছেড়ে দিতে চাইছেন না।

গুলিস্তান চত্বর এলাকায় বেশ কয়েকজন হকার জানান, তাদের নির্দিষ্ট পজিশন আছে। এককালীন টাকার বিনিময়ে এসব পজিশন নিয়েছেন। দৈনিক ভাড়াও দেন তারা। যারা ভাড়া নেন তারাই আবার বসতে বলেছেন। তবে তাদের কারো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

বায়তুল মোকাররম এলাকার এক হকার বলেন, ‘পেট তো লাল-নীল বুঝে না। দোকান না খুললে ছেলেমেয়ে না খেয়ে থাকবে। আমাদের কী করার আছে? আমাদের তো বাঁচতে হবে।’ অপর একজন বলেন, ‘আমরা কয় টাকার ব্যবসা করি? আমাদের কাছ থেকে সবাই টাকা নেয়, আবার দোকানও ভেঙে দেয়। আমরা কোথায় যাব? এই যে আপনি আমার নাম পেপারে দিবেন, এরপর নেতারা এসে আমাকেই ধরবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘রেড জোন থেকে হকার উচ্ছেদের ব্যাপারে আমরা কোনো ছাড় দেব না। উচ্ছেদের পরও যদি কেউ আবার দোকান বসায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, রোববার সকালে রাস্তা ও হাঁটা পথগুলোকে লাল, হলুদ ও সবুজ শ্রেণিতে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে করপোরেশনের সচিব আকরামুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক দফতর আদেশে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। কমিটি ডিএসসিসি প্রণীত মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাস্তা ও হাঁটার পথ যানবাহন ও জন চলাচলের জন্য নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা করবে। কমিটি গঠন করার পরই গুলিস্তানের ওই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

Tag :
জনপ্রিয়

মাদারদিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

একদিন পরেই হকারদের দখলে ‘রেড জোন’

প্রকাশের সময় : ১০:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

পদ্মা সেতুতে যাওয়ার সড়ক যানজটমুক্ত রাখতে রাজধানীর পল্টন ও গুলিস্তানের বেশকিছু এলাকাকে হকারদের জন্য ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রেড জোনের সড়ক ও ফুটপাথ থেকে হকার উচ্ছেদের এক দিন যেতে না যেতেই ফের দখল হয়ে গেছে। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব এলাকায় হকাররা আবার মালামালের পসরা সাজিয়ে বসতে দেখা গেছে।

এর আগে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হয়ে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স, বঙ্গভবন, মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারগামী ও ফ্লাইওভার থেকে গুলিস্তান চত্বর এলাকাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করে ডিএসসিসি। এসব এলাকায় হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর বার্তাও দেয় সংস্থাটি। মেয়রের বক্তব্য ছাড়াও তিন দিনব্যাপী ওই এলাকায় মাইকিং করা হয়।

রোববার প্রায় এক হাজার হকার উচ্ছেদ করে ডিএসসিসি। একই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৯ জনকে শাস্তির মুখোমুখি করা হয়। এরপরও হকাররা ফুটপাথ ছেড়ে দিতে চাইছেন না।

গুলিস্তান চত্বর এলাকায় বেশ কয়েকজন হকার জানান, তাদের নির্দিষ্ট পজিশন আছে। এককালীন টাকার বিনিময়ে এসব পজিশন নিয়েছেন। দৈনিক ভাড়াও দেন তারা। যারা ভাড়া নেন তারাই আবার বসতে বলেছেন। তবে তাদের কারো নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

বায়তুল মোকাররম এলাকার এক হকার বলেন, ‘পেট তো লাল-নীল বুঝে না। দোকান না খুললে ছেলেমেয়ে না খেয়ে থাকবে। আমাদের কী করার আছে? আমাদের তো বাঁচতে হবে।’ অপর একজন বলেন, ‘আমরা কয় টাকার ব্যবসা করি? আমাদের কাছ থেকে সবাই টাকা নেয়, আবার দোকানও ভেঙে দেয়। আমরা কোথায় যাব? এই যে আপনি আমার নাম পেপারে দিবেন, এরপর নেতারা এসে আমাকেই ধরবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন বলেন, ‘রেড জোন থেকে হকার উচ্ছেদের ব্যাপারে আমরা কোনো ছাড় দেব না। উচ্ছেদের পরও যদি কেউ আবার দোকান বসায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, রোববার সকালে রাস্তা ও হাঁটা পথগুলোকে লাল, হলুদ ও সবুজ শ্রেণিতে চিহ্নিত করার লক্ষ্যে করপোরেশনের সচিব আকরামুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক দফতর আদেশে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। কমিটি ডিএসসিসি প্রণীত মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় রেখে রাস্তা ও হাঁটার পথ যানবাহন ও জন চলাচলের জন্য নির্বিঘ্ন রাখার লক্ষ্যে কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা করবে। কমিটি গঠন করার পরই গুলিস্তানের ওই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।