ঢাকা ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চীনের হুয়াংলু গ্রামে নারীদের চুল লম্বা করার রহস্য

স্বাস্থ্যজ্জ্বল দীঘল কালো লম্বা চুল সকল নারীর পছন্দ। প্রাচীনকাল থেকেই লম্বা চুলের প্রতি নারীদের অন্যরকম একটা টান রয়েছে। লম্বা চুল শুধু একজন নারীর সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে তা নয়। বরং চুলের কিছুটা প্রভাব নারীর ব্যক্তিত্বের উপরেও পড়ে থাকে। তাই চুলের যত্নে কোন রকমের অবহেলা তারা করেন না। নারীর জীবনের অন্যতম প্রিয় বস্তু হচ্ছে তার নিজের লম্বা চুল। তবে নারীদের লম্বা কালো চুল ঐতিহ্যের অংশ ও অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে চীনের হুয়াংলু গ্রামের স্থানীয় ইয়াও গোষ্ঠীর কাছে।

চায়নার হুয়াংলু গ্রামটি বেইজিং থেকে প্রায় এক হাজার মাইল দূরে এক পাহাড়ে অবস্থিত। এই গ্রামের নারীদের একটা অদ্ভুত সংস্কৃতি রয়েছে যে তারা তাদের চুল অনেক ভালোবাসে এবং এই চুল কখনো জীবনে একবারের বেশি কাটে না। এই গ্রামের নারীরা তাদের চুলের প্রতি ভালোবাসাকে গিনেস বুকে নাম লিখিয়ে ‘লনগেস্ট হেয়ার ভিলেজ’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

হুয়াংলু গ্রামের নারীরা শুধুমাত্র তাদের জীবনে একবার মাত্র চুল কেটে থাকে এবং সেই সময়টা হচ্ছে তাদের বয়স যখন ১৭ হয়। ১৭ বছর বয়সে পা দিলেই সেই গ্রামের নারীদের জীবনে প্রথম এবং শেষবার চুল কাটার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অতঃপর আঠারো বছর বয়স থেকে আজীবন তারা আর চুল কাটে না।

নারীরা তাদের চুলের পেছনে যত শ্রম ও সময় দিয়ে থাকে তা কোনটাই ব্যর্থ হয় না। তাদের রয়েছে সবথেকে সুন্দর চুল। শুধুমাত্র চুল পরিষ্কার করতে এবং চিরুনি দিয়ে আঁচড়াতেই তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা সময় লেগে যায়। তবুও তারা ক্ষান্ত হয় না। তাদের চুলকে অসাধারণ ও সুন্দর করার জন্য এই গ্রামের মানুষেরা নিজেদের তৈরি একটি শ্যাম্পু আবিষ্কার করেছে। এই শ্যাম্পু সাধারণত ভাতের মাড়, হার্বস, ফল-ফলাদি এবং চা মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এই সিক্রেট ফর্মুলা সাধারণত তারা কারো সাথে শেয়ার করতে চায় না এবং তারা বলে থাকে এই শ্যাম্পু ব্যবহার করলে আপনার বয়স ৮০ বছর হলেও চুলে পাক ধরবে না।

চীনের হুয়াংলু গ্রামের স্থানীয় ইয়াও গোষ্ঠীর কাছে নারীদের লম্বা কালো চুল আয়ু, ধনসম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রতীক। তবে আমাদের অঞ্চলে চুলকে এভাবে না ভাবা হলেও মর্যাদার সঙ্গে দেখা হয়। কোনো নারীর লম্বা চুল মানে তার প্রতি একটু বিশেষ দৃষ্টি। ডিজিটাল যুগে ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে অনেক মেয়েই চুল কেটে সুবিধাজনক দৈর্ঘ্যে রাখার পক্ষে। অন্যরদিকে এ যুগেও বাজার ছেয়েছে চুল দ্রুত লম্বা ও কালো করার জন্য নানা ব্রান্ডের তেল, শ্যাম্পুসহ অনেক পণ্য।

বর্তমানে নানা রকম কৃত্রিম রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহার করার ফলে আমাদের চুল হয়ে উঠেছে রুক্ষ। শুষ্ক চুলের গোছাকে যেন কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে চুল পড়া তো আছেই। ঘরোয়া টোটকায় তো তৎক্ষণাৎ কাজ হচ্ছে না। লম্বা চুলের সৌন্দর্য চান অনেক মেয়েই। রেশম কোমল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পাওয়ার জন্য রইল কিছু টিপস-

সালফেটবিহীন, হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করতে গিয়ে মাথা ঘষবেন না। দু’হাতে শ্যাম্পু ভাল করে মেখে নিন। তার পর চুলের গায়ে লাগিয়ে নিন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। চুলে গরম পানি দেবেন না। সাধারণ তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করবেন না। তার বদলে পাতলা সুতির বা মলমলের কাপড় দিয়ে চুল জড়িয়ে রাখুন। ভিজে চুল আঁচড়াবেন না। চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করুন।

যতই তাড়া থাকুক হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে দ্রুত চুল ড্যামেজ হয়।

শ্যাম্পুর আগে মাথায় ঈষদোষ্ণ তেল মালিশ করুন। সূর্যের ইউভি রশ্মি শুধু ত্বকের নয়, চুলেরও ক্ষতি করে। তাই দিনেরবেলা স্কার্ফ, ছাতা ব্যবহার করুন। চুলে ক্রমাগত রাসায়নিক রং, ব্লিচিং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। প্রতি দিনের ডায়েটে প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

চুলে খুশকি থাকলে নিমপাতা পেস্ট করে এর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার চুলের গোড়ায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ঘরে তৈরি এই প্যাক ব্যবহারে দ্রুত উপকার পাবেন।

চুল যদি নিস্তেজ ও প্রাণহীন হয়ে থাকে তবে পাকা পেঁপে ব্লেন্ড করে নিন। এর সঙ্গে আধা কাপ টক দই মিশিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টার জন্য। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

যাদের অনেক বেশি চুল পড়ে আর খুশকি সমস্যা আছে তাদের জন্য মেথি খুব উপকারী। সারা রাত মেথি পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ভেজানো মেথি ভালো করে পেস্ট করে চুলে আধা ঘণ্টার জন্য লাগিয়ে রাখতে হবে। চুল ধোয়ার পর পরিবর্তনটা নিজেই টের পাবেন।

Tag :
জনপ্রিয়

মাদারদিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

চীনের হুয়াংলু গ্রামে নারীদের চুল লম্বা করার রহস্য

প্রকাশের সময় : ১১:০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

স্বাস্থ্যজ্জ্বল দীঘল কালো লম্বা চুল সকল নারীর পছন্দ। প্রাচীনকাল থেকেই লম্বা চুলের প্রতি নারীদের অন্যরকম একটা টান রয়েছে। লম্বা চুল শুধু একজন নারীর সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে তা নয়। বরং চুলের কিছুটা প্রভাব নারীর ব্যক্তিত্বের উপরেও পড়ে থাকে। তাই চুলের যত্নে কোন রকমের অবহেলা তারা করেন না। নারীর জীবনের অন্যতম প্রিয় বস্তু হচ্ছে তার নিজের লম্বা চুল। তবে নারীদের লম্বা কালো চুল ঐতিহ্যের অংশ ও অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে চীনের হুয়াংলু গ্রামের স্থানীয় ইয়াও গোষ্ঠীর কাছে।

চায়নার হুয়াংলু গ্রামটি বেইজিং থেকে প্রায় এক হাজার মাইল দূরে এক পাহাড়ে অবস্থিত। এই গ্রামের নারীদের একটা অদ্ভুত সংস্কৃতি রয়েছে যে তারা তাদের চুল অনেক ভালোবাসে এবং এই চুল কখনো জীবনে একবারের বেশি কাটে না। এই গ্রামের নারীরা তাদের চুলের প্রতি ভালোবাসাকে গিনেস বুকে নাম লিখিয়ে ‘লনগেস্ট হেয়ার ভিলেজ’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে।

হুয়াংলু গ্রামের নারীরা শুধুমাত্র তাদের জীবনে একবার মাত্র চুল কেটে থাকে এবং সেই সময়টা হচ্ছে তাদের বয়স যখন ১৭ হয়। ১৭ বছর বয়সে পা দিলেই সেই গ্রামের নারীদের জীবনে প্রথম এবং শেষবার চুল কাটার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অতঃপর আঠারো বছর বয়স থেকে আজীবন তারা আর চুল কাটে না।

নারীরা তাদের চুলের পেছনে যত শ্রম ও সময় দিয়ে থাকে তা কোনটাই ব্যর্থ হয় না। তাদের রয়েছে সবথেকে সুন্দর চুল। শুধুমাত্র চুল পরিষ্কার করতে এবং চিরুনি দিয়ে আঁচড়াতেই তাদের ঘন্টার পর ঘন্টা সময় লেগে যায়। তবুও তারা ক্ষান্ত হয় না। তাদের চুলকে অসাধারণ ও সুন্দর করার জন্য এই গ্রামের মানুষেরা নিজেদের তৈরি একটি শ্যাম্পু আবিষ্কার করেছে। এই শ্যাম্পু সাধারণত ভাতের মাড়, হার্বস, ফল-ফলাদি এবং চা মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এই সিক্রেট ফর্মুলা সাধারণত তারা কারো সাথে শেয়ার করতে চায় না এবং তারা বলে থাকে এই শ্যাম্পু ব্যবহার করলে আপনার বয়স ৮০ বছর হলেও চুলে পাক ধরবে না।

চীনের হুয়াংলু গ্রামের স্থানীয় ইয়াও গোষ্ঠীর কাছে নারীদের লম্বা কালো চুল আয়ু, ধনসম্পদ ও সৌভাগ্যের প্রতীক। তবে আমাদের অঞ্চলে চুলকে এভাবে না ভাবা হলেও মর্যাদার সঙ্গে দেখা হয়। কোনো নারীর লম্বা চুল মানে তার প্রতি একটু বিশেষ দৃষ্টি। ডিজিটাল যুগে ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে অনেক মেয়েই চুল কেটে সুবিধাজনক দৈর্ঘ্যে রাখার পক্ষে। অন্যরদিকে এ যুগেও বাজার ছেয়েছে চুল দ্রুত লম্বা ও কালো করার জন্য নানা ব্রান্ডের তেল, শ্যাম্পুসহ অনেক পণ্য।

বর্তমানে নানা রকম কৃত্রিম রাসায়নিক প্রসাধনী ব্যবহার করার ফলে আমাদের চুল হয়ে উঠেছে রুক্ষ। শুষ্ক চুলের গোছাকে যেন কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে চুল পড়া তো আছেই। ঘরোয়া টোটকায় তো তৎক্ষণাৎ কাজ হচ্ছে না। লম্বা চুলের সৌন্দর্য চান অনেক মেয়েই। রেশম কোমল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পাওয়ার জন্য রইল কিছু টিপস-

সালফেটবিহীন, হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু করতে গিয়ে মাথা ঘষবেন না। দু’হাতে শ্যাম্পু ভাল করে মেখে নিন। তার পর চুলের গায়ে লাগিয়ে নিন। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। চুলে গরম পানি দেবেন না। সাধারণ তোয়ালে বা গামছা ব্যবহার করবেন না। তার বদলে পাতলা সুতির বা মলমলের কাপড় দিয়ে চুল জড়িয়ে রাখুন। ভিজে চুল আঁচড়াবেন না। চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে এমন প্রসাধনী ব্যবহার করুন।

যতই তাড়া থাকুক হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে দ্রুত চুল ড্যামেজ হয়।

শ্যাম্পুর আগে মাথায় ঈষদোষ্ণ তেল মালিশ করুন। সূর্যের ইউভি রশ্মি শুধু ত্বকের নয়, চুলেরও ক্ষতি করে। তাই দিনেরবেলা স্কার্ফ, ছাতা ব্যবহার করুন। চুলে ক্রমাগত রাসায়নিক রং, ব্লিচিং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। প্রতি দিনের ডায়েটে প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন।

চুলে খুশকি থাকলে নিমপাতা পেস্ট করে এর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার চুলের গোড়ায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ঘরে তৈরি এই প্যাক ব্যবহারে দ্রুত উপকার পাবেন।

চুল যদি নিস্তেজ ও প্রাণহীন হয়ে থাকে তবে পাকা পেঁপে ব্লেন্ড করে নিন। এর সঙ্গে আধা কাপ টক দই মিশিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টার জন্য। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

যাদের অনেক বেশি চুল পড়ে আর খুশকি সমস্যা আছে তাদের জন্য মেথি খুব উপকারী। সারা রাত মেথি পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে ভেজানো মেথি ভালো করে পেস্ট করে চুলে আধা ঘণ্টার জন্য লাগিয়ে রাখতে হবে। চুল ধোয়ার পর পরিবর্তনটা নিজেই টের পাবেন।