ঢাকা ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চালের দাম বাড়ায় কারা?

অস্থিতিশীল চালের বাজার। দাম এক দফা কমে তো দুই দফা বাড়ে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে বাজার প্রভাবিত হচ্ছে। দফায় দফায় বাড়ছে দাম। সপ্তাহখানেক আগেও সামান্য কমেছিল চালের দাম। তবে গত কয়েকদিন ধরে ফের চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। নতুন করে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ার প্রসঙ্গে বরাবরের মতো খুচরা আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিলারদের। আর মিলাররা ভারতের চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বাড়ানো ও আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। এ দিকে ফের চালের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা বলছেন, এটা কেবল কারসাজি।
বিজ্ঞাপন
চালের দাম সামান্য কমেছিল এখন নতুন অজুহাত দাঁড় করিয়ে আবার বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই অজুহাতেই বাড়ছে চালের দাম। জানা গেছে, রপ্তানিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে ভাঙা চাল (খুদ) রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। একইসঙ্গে বাসমতি ও সেদ্ধ চাল ছাড়া অন্য চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে প্রতিবেশী দেশটি। মূলত আতপ চাল রপ্তানিতে এই শুল্ক বসিয়েছে ভারত। অথচ দেশের বাজারে সব চালের দামই বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি বাজারে এখন মানভেদে সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৬-৬৮ টাকা কেজি যা খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৭২-৭৫ টাকায়।

পাইকারিতে মাঝারি আকারের (পাইজাম, আটাশ, লতা) বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা কেজি। ভোক্তারা খুচরা থেকে এই চাল কিনছেন ৫৫-৫৬ টাকা কেজিতে। আর পাইকারিতে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা কেজি যা খুরচায় বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। রাজধানীর সবুজবাগ রাজারবাগের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ রাইস এজেন্সির মামুন হোসেন জানান, ভারতে চালের শুল্ক বাড়ানোর পরই নতুন করে মিলাররা দাম বাড়িয়েছে। তারা ইস্যু খুঁজে পেলেই চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজার কখনো স্থিতিশীল থাকে না। কাওরানবাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আব্দুল আওয়াল তালুকদার বলেন, চালের বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। গত সপ্তাহে দেশে চালে কিছু টাকা কমেছিল। কিন্তু ভারতে শুল্ক বাড়ানোর পর আবার বেড়ে গেছে। মিলারদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে আছে। তাদেরকে জরিমানা করা হয় না। ঢাকার বাজারে এসে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। অথচ চালের মূল কারসাজি করে মিলাররা। আমাদের খুচরায় এক বস্তা চাল বিক্রি করতে এক কেজি এমনেই ঘাটতি তৈরি হয়। এ জন্য ১-২ টাকা বেশি লাভে খুচরায় বিক্রি করা হয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম লায়েক আলী বলেন, আমাদের ওপর অযথা দোষ চাপানো হয়।

আমাদের এখানে ৬০-৬১ টাকা কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি করছি। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে তা ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই পার্থক্য কেন হয়। যারা পাইকারি বিক্রি করে তারা চালান দিয়ে বিক্রি করে। আপনারা তা দেখেন। তাহলে বুঝতে পারবেন কারা দাম বাড়িয়েছে। মিলাররা কোনো কথা বলে না তাই সব দোষ মিলারদের ওপর চাপানো হয়। এখন তথ্য-প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে চালের দাম বাড়ার কারণে তা কৃষকরা জেনে যায়। তখন ধানের দামও বাড়িয়ে দেয়া হয়। বাজারে ধানের সংকট হলে বাজারে সমস্যা হয়। গত এক সপ্তাহে ৪৮ কেজিতে ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে ধানের দাম। এর জন্য চালের দাম খুব বেশি হলে ৫০ পয়সা বাড়তে পারে। এখন আবহাওয়া খারাপ। ধানের সংকট রয়েছে। এ জন্য আমরা ৫০ পয়সা বা এক টাকা দাম বাড়িয়েছি। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে তা আরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ফের চালের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে চালের দাম কখনো কমে না। একসঙ্গে দাম বাড়ার পর দুই এক টাকা কমিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর আবার সেই দাম বেড়ে যায়। রাজধানীর মাদারটেক বাজারে চাল কিনতে আসা মহসিন হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে শুনেছি চালের দাম কমেছে। অথচ বাজারে দেখি সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। এক বস্তা (৫০ কেজি) আটাশ চাল কিনেছি ২৭৫০ টাকা দিয়ে।

রিকশা দিয়ে বাসায় নিতে আরও ৩০-৪০ টাকা খরচ হয়। এককেজিতে ৫৫ টাকার বেশি দাম পড়ে যায়। অথচ এই চাল আগে ৫০ টাকার নিচে কিনতাম। দিনমজুর সোহেল মিয়া বলেন, পাঁচ কেজি চাল নিলাম ২৮০ টাকা দিয়ে। আগে একসঙ্গে এক বস্তা চাল কিনতাম। কিন্তু এখন দাম এতটাই বেড়েছে ৫-১০ কেজি করে কিছুদিন পর পর চাল কিনতে হচ্ছে। দাম বাড়লে আর কমে না। কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী রয়েছে। এ ছাড়া মিল মালিকরাও চালের দাম বাড়ানোর পেছনে জড়িত। তারা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে আবার কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে চালের দাম কমছে না। সরকার থেকে বেসরকারিভাবে চাল আমদানিকারকদের যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা ভোক্তারা পাচ্ছে না। আমরা মনে করি সরকার মাঝেমধ্যে যে অভিযান চালায় তা নিয়মিত করা উচিত। কিন্তু তা মাঝেমধ্যে করার কারণে সিন্ডিকেটরা সুযোগ বেশি পায়। সরকার চাইলেই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে। আমরা চাই তারা আরও বেশি পদক্ষেপ নেবে।

Tag :
জনপ্রিয়

মাদারদিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

চালের দাম বাড়ায় কারা?

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

অস্থিতিশীল চালের বাজার। দাম এক দফা কমে তো দুই দফা বাড়ে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে বাজার প্রভাবিত হচ্ছে। দফায় দফায় বাড়ছে দাম। সপ্তাহখানেক আগেও সামান্য কমেছিল চালের দাম। তবে গত কয়েকদিন ধরে ফের চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। নতুন করে সব ধরনের চালের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দাম বাড়ার প্রসঙ্গে বরাবরের মতো খুচরা আর পাইকারি ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিলারদের। আর মিলাররা ভারতের চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বাড়ানো ও আবহাওয়াকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। এ দিকে ফের চালের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা বলছেন, এটা কেবল কারসাজি।
বিজ্ঞাপন
চালের দাম সামান্য কমেছিল এখন নতুন অজুহাত দাঁড় করিয়ে আবার বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই অজুহাতেই বাড়ছে চালের দাম। জানা গেছে, রপ্তানিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বৃদ্ধি করতে ভাঙা চাল (খুদ) রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারত। একইসঙ্গে বাসমতি ও সেদ্ধ চাল ছাড়া অন্য চাল রপ্তানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে প্রতিবেশী দেশটি। মূলত আতপ চাল রপ্তানিতে এই শুল্ক বসিয়েছে ভারত। অথচ দেশের বাজারে সব চালের দামই বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি বাজারে এখন মানভেদে সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৬-৬৮ টাকা কেজি যা খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৭২-৭৫ টাকায়।

পাইকারিতে মাঝারি আকারের (পাইজাম, আটাশ, লতা) বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫২ টাকা কেজি। ভোক্তারা খুচরা থেকে এই চাল কিনছেন ৫৫-৫৬ টাকা কেজিতে। আর পাইকারিতে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা কেজি যা খুরচায় বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। রাজধানীর সবুজবাগ রাজারবাগের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ রাইস এজেন্সির মামুন হোসেন জানান, ভারতে চালের শুল্ক বাড়ানোর পরই নতুন করে মিলাররা দাম বাড়িয়েছে। তারা ইস্যু খুঁজে পেলেই চালের দাম বাড়িয়ে দেয়। বাজার কখনো স্থিতিশীল থাকে না। কাওরানবাজারের আল্লাহর দান রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী আব্দুল আওয়াল তালুকদার বলেন, চালের বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই। গত সপ্তাহে দেশে চালে কিছু টাকা কমেছিল। কিন্তু ভারতে শুল্ক বাড়ানোর পর আবার বেড়ে গেছে। মিলারদের কাছে সরকার জিম্মি হয়ে আছে। তাদেরকে জরিমানা করা হয় না। ঢাকার বাজারে এসে সাধারণ ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হয়। অথচ চালের মূল কারসাজি করে মিলাররা। আমাদের খুচরায় এক বস্তা চাল বিক্রি করতে এক কেজি এমনেই ঘাটতি তৈরি হয়। এ জন্য ১-২ টাকা বেশি লাভে খুচরায় বিক্রি করা হয়। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম লায়েক আলী বলেন, আমাদের ওপর অযথা দোষ চাপানো হয়।

আমাদের এখানে ৬০-৬১ টাকা কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি করছি। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে তা ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এই পার্থক্য কেন হয়। যারা পাইকারি বিক্রি করে তারা চালান দিয়ে বিক্রি করে। আপনারা তা দেখেন। তাহলে বুঝতে পারবেন কারা দাম বাড়িয়েছে। মিলাররা কোনো কথা বলে না তাই সব দোষ মিলারদের ওপর চাপানো হয়। এখন তথ্য-প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে চালের দাম বাড়ার কারণে তা কৃষকরা জেনে যায়। তখন ধানের দামও বাড়িয়ে দেয়া হয়। বাজারে ধানের সংকট হলে বাজারে সমস্যা হয়। গত এক সপ্তাহে ৪৮ কেজিতে ১০০-১৫০ টাকা বেড়েছে ধানের দাম। এর জন্য চালের দাম খুব বেশি হলে ৫০ পয়সা বাড়তে পারে। এখন আবহাওয়া খারাপ। ধানের সংকট রয়েছে। এ জন্য আমরা ৫০ পয়সা বা এক টাকা দাম বাড়িয়েছি। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে তা আরও বেশি বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ফের চালের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তারা বলছেন, বাজারে চালের দাম কখনো কমে না। একসঙ্গে দাম বাড়ার পর দুই এক টাকা কমিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু কয়েকদিন পর আবার সেই দাম বেড়ে যায়। রাজধানীর মাদারটেক বাজারে চাল কিনতে আসা মহসিন হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে শুনেছি চালের দাম কমেছে। অথচ বাজারে দেখি সেই বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল। এক বস্তা (৫০ কেজি) আটাশ চাল কিনেছি ২৭৫০ টাকা দিয়ে।

রিকশা দিয়ে বাসায় নিতে আরও ৩০-৪০ টাকা খরচ হয়। এককেজিতে ৫৫ টাকার বেশি দাম পড়ে যায়। অথচ এই চাল আগে ৫০ টাকার নিচে কিনতাম। দিনমজুর সোহেল মিয়া বলেন, পাঁচ কেজি চাল নিলাম ২৮০ টাকা দিয়ে। আগে একসঙ্গে এক বস্তা চাল কিনতাম। কিন্তু এখন দাম এতটাই বেড়েছে ৫-১০ কেজি করে কিছুদিন পর পর চাল কিনতে হচ্ছে। দাম বাড়লে আর কমে না। কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগী রয়েছে। এ ছাড়া মিল মালিকরাও চালের দাম বাড়ানোর পেছনে জড়িত। তারা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে আবার কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে চালের দাম কমছে না। সরকার থেকে বেসরকারিভাবে চাল আমদানিকারকদের যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে তা ভোক্তারা পাচ্ছে না। আমরা মনে করি সরকার মাঝেমধ্যে যে অভিযান চালায় তা নিয়মিত করা উচিত। কিন্তু তা মাঝেমধ্যে করার কারণে সিন্ডিকেটরা সুযোগ বেশি পায়। সরকার চাইলেই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারে। আমরা চাই তারা আরও বেশি পদক্ষেপ নেবে।